Sunday, November 17, 2013

আম-আদমির জন্য (আলঝেইমার’স ডিজিজ / Alzheimer’s disease কি)

মানুষ বৃদ্ধ হলে স্মরণ শক্তি কমে যায় (dementia) এটা আমাদের মাঝে খুবই প্রচলিত একটি ধারণা। ধারনাটা যে খুব একটা ভুল তাও কিন্ত নয়। ৪৫ বৎসর বয়সের পর বিশাল অংশের একদল লোকের স্মরণ শক্তি কমে যেতে শুরু করে এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে সব কিছু ভুলে যাবার প্রবণতাও। এই ধরণের বুদ্ধিবৈকল্য বা স্মৃতি শক্তি কমে যাওয়ার কারণ যে সকল রোগ তার প্রধান রোগটির নাম আলঝেইমারস রোগ। ১৯০৬ সালে জার্মান মনোচিকিৎসক Alois Alzheimerসর্বপ্রথম এ রোগটির বর্ণনা দেন, আর তার নাম অনুসারেই এ রোগের এমন নাম রাখা হয়।
এ রোগের সঠিক কারণ কি তা কিন্ত এখন ও জানা যায়নি তবে সাম্প্রতিক গবেষনা গুলো দাবী করছে; যে সকল উপাদান বা নিউরোট্রান্সমিটার (neurotransmiter) এর আদান প্রদান এর মাধ্যমে মস্তিস্ক তাদের কার্য সম্পাদন করে তাদের সমস্যার কারণেই এই রোগটি হয়ে থাকে। পরিসংখান অনুযায়ী শতকরা ১৫ ভাগ রোগীই এ রোগে আক্রান্ত হন পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে (familial inheritance), আর শতকরা ১ থেকে ৫ শতাংশ রোগের কারন হলো জেনেটিক (genetic)। এ রোগ হলে মস্তিস্কের পরিমান ছোট (atrophy) হয়ে আসতে থাকে, বিশেষ করে সেরিব্রাল কর্টেক্স (cerebral cortex) এবং হিপোক্যাম্পাস (hippocampus) উল্লেখযোগ্য ভাবে আকারে কমতে (atrophy) থাকে।
আগেই বলেছি আলঝেইমারস রোগ হলে রোগীর স্মৃতি শক্তি কমে যেতে শুরু করে। রোগী সাম্প্রতিক (short term) এবং অতীত (long term) দুই ধরণের স্মৃতিই বিস্মৃত হয়ে যান, যদিও সাম্প্রতিক ঘটনা গুলো ভুলে যাবার হারটাই অধিক। এছাড়া এ সকল রোগীর মাঝে দ্বিধা (confusion), খিটখিটে স্বভাব (irritation), উদ্ধ্যত ভাব (aggression), বিষন্নতা-অবসাদ, বাকশক্তিহীনতা বা অন্যের কথা বোঝার ক্ষমতা লোপ পাওয়া (aphasia) সহ নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তিনি তার এই সমস্যা গুলো বুঝতে পারেন না এমন কি তার মনে এ বিশ্বাস জন্মায় যে তার এ ধরনের কোন সমস্যাই নেই। এর ফলে অনেক সময়ই ব্যক্তিটি পারিবারিক ভুলবোঝাবুঝির শিকার হন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে তার একটি বৈরি সম্পর্ক তৈরী হয়; ফলস্বরূপ তিনি চরম একাকীত্বে ভুগতে থাকেন।
এমন রোগ হলে পরিবারের প্রবীণ সদস্যটিকে একজন নিউরোবিশেষজ্ঞের নিকট নিয়ে যাওয়া উচিত। সাধারণত চিকিৎসক সাহেব রোগীর ইতিহাস জেনে এবং তার আত্মীয়দের সাথে কথা বলেই রোগটি নিশ্চিত করতে পারেন। তবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় সিটি স্ক্যান (CT scan), এম-আর-আই (MRI), স্পেক্ট (SPECT-single photon emission computed tomography), পেট স্ক্যান (PET-positron emission tomography) এসব পরীক্ষা করে অনেক সময় নিশ্চিত হতে হয় রোগীর এর সাথে মস্তিস্কের অন্য কোন রোগ আছে কিনা।
দুর্ভাগ্যজনক হলো আলঝেইমার রোগের এখনো সঠিক কোন চিকিৎসা আবিষ্কার করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। তবে পরিবারের আপনজনেরা সহানুভুতিশীল হলে এবং সহমর্মিতা সহ ব্যক্তিটিকে একটি সঠিক স্নেহময় পরিবেশ তৈরী করে দিলে তার জন্য একটি অর্থবহ জীবন যাপন সম্ভবপর হয়ে উঠতে পারে।
বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যায় যে, যেসকল ব্যক্তি মধ্যবয়সে বিভিন্ন বুদ্ধিভিত্তিক কাজ (যেমন লেখালেখি, বইপড়া, যন্ত্রসংগীত বাজানো), বিভিন্ন সামাজিক গঠন/সেবামূলক কাজ, Board game খেলা (দাবা, cross word puzzle) ইত্যাদি কাজে ব্যস্ত থাকেন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান তাদের মাঝে এ রোগ হবার প্রবণতা কম। অন্যদিকে যারা অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ রোগে ভোগেন বা ধুমপায়ী তাদের মধ্যে এ রোগ হবার প্রবণতা অপেক্ষাকৃত ভাবে বেশী।
উৎসাহের কথা হলো অতিসম্প্রতি আলঝেইমার রোগের উপশমে DONEPEZIL, GALANTAMINE, MEMANTINE, RIVASTIGMINE নামক কিছু অসুধ আবিস্কৃত হয়েছে। এদের কার্যকারীতা শতভাগ না হলেও অনেক ক্ষেত্রেই এরা রোগ উপশমে আশানুরূপ প্রমাণ রেখেছে। তবে বাস্তবতা হলো এই যে বার্ধক্যে উপনীত হলে আমরা যে কেউই এমন একটি রোগের শিকার হয়ে উঠতে পারি, তাই আমাদের সকলের উচিত এমন রোগীদের সহানুভুতির দৃষ্টিতে দেখা এবং আমাদের নিজেদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে একটা সুন্দর  পৃথিবীর পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়াস অব্যাহত রাখা।

কালেকটেড

Saturday, November 16, 2013

‘টাইজেন' কি?

‘টাইজেন"

সিম্বিয়ানের মজা শেষ হতে না হতেই যে অপারেটিং সিস্টেম সবার মন জয় করতে পেরেছে তা হল অ্যান্ড্রয়েড। গুগলের এই ফ্রি অপারেটিং সিটেমের ব্যবহারবান্ধব ফিচার সবার কাছেই নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পেরেছিল। কিন্তু এরই মধ্যে একে টেক্কা দিতে চলে আসছে নতুন নতুন আরো অপারেটিং সিস্টেম। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি যেটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তা হল ‘টাইজেন” ।

‘টাইজেন’ অ্যান্ড্রয়েড এর মতই এক ধরনেরর অপারেটিং সিস্টেম। আর এটা নিয়ে সব চেয়ে বেশি পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে স্যামসাং। আর তারাই চাচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড এর বদলে মানুষ টাইজেনের দিকে ঝুঁকুক। এর কারণ অ্যান্ড্রয়েড অনেক কোম্পানি ব্যবহার করলেও টাইজেন একদমই নতুন। তাই কোনভাবে যদি মানুষকে এর দিকে নিয়ে আসা যায়, তবে বিশাল অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মার্কেট দখল করতে পারবে স্যামসাং। আর এতে করে গুগলকে যে লাইসেন্স ফি দিতে হয় সেটাও তাদের সাশ্রয় হবে। তাই এক ঢিলে দুই পাখি মারার বিশাল পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে স্যামসাং।

টাইজেন হচ্ছে লিনাক্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম। এটি ডেভেলপ করে ব্যবহারযোগ্য করার জন্য এর সাথে ইতোমধ্যে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে ৩৬টি বিশ্বখ্যাত কোম্পানি। এর মধ্যে কোনামি, ম্যাকাফি, প্যানাসনিক, দি ওয়েদার চ্যানেল এবং ইবে অন্যতম। ৩৬টি কোম্পানির মধ্যে থাকা Appbackr নামের কোম্পানির ট্রেভর কর্নওয়েল জানান, আরও দক্ষ কোডিং-এর প্রতিশ্রুতি এবং আইওএস বা অ্যান্ড্রয়েডের বাধা ভেঙে ডেভেলপারদের এইচটিএমএল ৫, সিএসএস এবং জাভাস্ক্রিপ্টে কোডিং করার সুবিধা দেয় টাইজেন। যা এসব কোম্পানিকে আরও বেশি আকৃষ্ট করেছে।

টাইজেন জানিয়েছে, তারা চাচ্ছে আরও কোম্পানি তাদের সাথে চুক্তি করতে চাইলে তারা হাসিমুখেই তাদের সাথে যুক্ত হবে। এর কারণ হিসেবে তারা জানান, যত বেশি কোম্পানি তাদের সাথে থাকবে তাদের প্রচারও ততটা বাড়বে। আর এতে করে বাজারে আসার আগেই এর গ্রাহক তৈরি হয়ে যাবে।

টাইজেন তৈরি হয়েছে নোকিয়া আর ইন্টেলের ‘মিগো’ অপারেটিং সিস্টেমকে ডেভেলপ করে। এর সাথে আছে স্যামসাং বাডা ওএস, যা নিজেদের অপারেটিং সিস্টেমকে কাজে লাগিয়ে অ্যান্ড্রয়েড এর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে টাইজেনকে দাঁড় করাচ্ছে। যে কারণে বোঝা যাচ্ছে কয়েক ধরনের প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটেছে এখানে। সব মিলিয়ে সহজেই আন্দাজ করা যায় কোরিয়ান কোম্পানি স্যামসাং কতটা উঠেপড়ে লেগেছে টাইজেনকে তুলে ধরতে।

নানা ধরনের ইলেক্ট্রনিক কোম্পানি আর গেম পাবলিশাররাও যুক্ত হয়েছে টাইজেন নিয়ে কাজ করতে। এদের সবার নাম প্রকাশ করা হয় টাইজেনের ডেভেলপার সামিটে। এদের বিভিন্ন প্রতিনিধির কাছ থেকে জানা গেছে টাইজেনের ফ্লেক্সিবিলিটি আর ওপেনসোর্স পরিবেশের কারণেই এরা আগ্রহ দেখাচ্ছে এই নতুন অপারেটিং সিস্টেমের প্রতি। সেই সঙ্গে জাভাস্ক্রিপ্টে কোডিং করা কিংবা এইচটিএমএলে কোডিং করার মত সুবিধা এর প্রতি ডেভেলপার কোম্পানিদের আগ্রহের অন্যতম কারণ।

এ ধরনেরর কিছু সুবিধা দিয়ে ফায়ারফক্সের ওএস অপারেটিং সিস্টেম বাজারে আসলেও তা অ্যান্ড্রয়েড এর জনপ্রিয়তায় খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। শুধুমাত্র যুক্তরাজ্য আর যুক্তরাষ্ট্রের কিছু জায়গায় এর মোটামুটি জনপ্রিয়তা লক্ষ করা যায়। তাই একে অ্যান্ড্রয়েড এর প্রতিদ্বন্দ্বী বলা যায় না।

তাই সবাই অপেক্ষা করছে, যে টাইজেন নিয়ে সবার এত আগ্রহ, এত আলোচনা সেটা কেমন করে বাজারে আসে। কিন্তু সেটা দেখার জন্য আরও বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। এ বছরের শেষে এটা বাজারে ছাড়ার কথা থাকলেও এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।




সূত্র: উকিপিডিয়া and TunerPage

Thursday, November 14, 2013

SOFTWARE ISILO, for readind homoeopathic books

ISILO : software needed to open the pdb books
software with serial key 


Homeopathic books in one folder

A bouquet of Homeopathic books in one folder

list of books

1. THE ENCYCLOPEDIA OF PURE MATERIA MEDICA By TIMOTHY F. ALLEN, A.M., M.D.
2. Keynotes And Characteristics With Comparisons of some of the Leading Remedies of the Materia Medica Henry C. Allen, M. D.
3.First Lessons in the Symptomatology of Leading Homœopathic Remedies by H. R. Arndt, M. D.
4.BONNINGHAUSEN’S CHARACTERISTICS MATERIA MEDICA & REPERTORY. by C. M. BOGER, M.D.
5. How To Use The Repertory with A Practical Analysis of Forty Homeopathic Remedies by Glen Irving Bidwell, M.D.
6. BŒNNINGHAUSEN’S CHARACTERISTICS MATERIA MEDICA by C. M. BOGER, M.D.
7. HOMŒOPATHIC MATERIA MEDICA by William BOERICKE, M.D
8. REPERTORY by Oscar E. BOERICKE, M.D
9. Studies in the Philosophy of Healing and others writing including The study of materia medica and taking the case 
C. M. BOGER
10. A SYNOPTIC KEY OF THE MATERIA MEDICA By Cyrus Maxwell BOGER
11. A DICTIONARY OF PRACTICAL MATERIA MEDICA By John Henry CLARKE, M.D.
12. The Genius of Homeopathy Lectures and Essays on Homeopathic Philosophy By Dr Stuart M. CLOSE
13. Practice of Homoeopathy By Paul F. Curie, M. D.
14. DECACHORDS  by A. Gladstone Clarke.
15. A DICTIONARY OF PRACTICAL MATERIA MEDICA By John Henry CLARKE, M.D.
16. KEY-NOTES TO THE MATERIA MEDICA by HENRY N. GUERNSEY, M.D
17. Chronic Diseases – Samuel Hahnemann
18. ORGANON OF MEDICINE by Hahnemann Samuel
19. SEVEN-HUNDRED RED LINE SYMPTOMS from COWPERTHWAITE’S MATERIA MEDICA Rewritten by J. W. Hutchison, M. D.
20. The Mnemonic Similiad by Stacy Jones
21. Kent’s Aphorisms and Precepts from extemporaneous lectures
22. CLINICAL CASES By Pr James Tyler Kent
23. LECTURES ON HOMOEOPATHIC PHILOSOPHY BY James Tyler KENT, A.M., M.D.
24. LECTURES ON HOMŒOPATHIC MATERIA MEDICA by JAMES TYLER KENT, A.M., M.D.
25. What the doctor needs to know in order to make a successful prescription By Dr James Tyler Kent
26. KENT’S NEW REMEDIES
27. KENT’S REPERTORY
28. LESSER WRITINGS by Dr J. T. KENT
29. Keynotes Of The Homoeopathic Materia Medica by Dr. Adolph VON LIPPE
30. Regional Leaders by E. B. Nash, M. D.
31. Leaders In Homoeopathic Therapeutics by E. B. NASH
32. The principles and Art of Cure by Homœopathy by HERBERT A. ROBERTS, M.D.
33. Compendium Mental diseases and their modern treatment By Professor Selden Haines Talcott (A.M., M.D., Ph.D)
34. THE PRESCRIBER  by John Henry Clarke

click---> HERE TO DOWNLOAD

all books in pdb format

If u need any help write to me or call 9609485657

Friday, November 1, 2013

হেমাচুরিয়া (Hematuria) বা প্রসাবের সঙ্গে রক্ত

হেমাচুরিয়া বলতে প্রসাবে রক্ত যাওয়াকে বোঝায়। এই রক্ত যাবার কারনে প্রসাবের রঙ ঘোলাটে দেখা যায় এবং কখনো কখনো তা গোলাপি বর্ণ ধারন করে। একজন সুস্থ্য মানুষের প্রসাবের সাথে কোনো রক্ত বা রক্ত কনিকা যাবেনা এটাই স্বাভাবিক। অবশ্য পরিনত সুস্থ্য মেয়ে / মহিলাদের প্রসাবে শুধুমাত্র মাসিক ঋতু চক্রের সময় কিছু রক্ত কণিকা পাওয়া যাওয়াটা স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়া হয়।
হেমাচুরিয়া অনেক কারনে হতে পারে তবে প্রধানত এটা কিডনির এবং মুত্রনালির নানাবিধ সমস্যার কারনেই হয়ে থাকে। কিডনি এবং মুত্রথলিতে ইনফেকশন, পাথর, টিউমার, ক্যান্সার বা টিবি হলে প্রসাবে রক্তকনিকা পাওয়া যেতে পারে,এছাড়া কিডনি কোনো কারনে আঘাত প্রাপ্ত হলে বা এ,জি,এন (AGN), পায়োলোনেফ্রাইটিস ইত্যাদি হলেও প্রসাবে রক্ত কনিকা পাওয়া যেতে পারে। তাছাড়া ইউরেটার (Ureter) এবং ইউরেথ্রায় (Urethra) পাথর, টিউমার, ইনফ্লামেশন হলে এবং প্রষ্টেট গ্রন্থির ঘা অথবা ক্যান্সার হলেও হেমাচুরিয়া হতে পারে। কিডনির সমস্যার বাইরে রক্তজমাট বাধার সমস্যা (Bleeding disorder), এন্ডোকার্ডাইটিস, অস্বাভাবিক উচ্চ রক্ত চাপ (Malignant hypertension) এমনকি কিছু অসুধ সেবনের কারনেও হেমাচুরিয়া হওয়া সম্ভব।
কিডনি বিশেষজ্ঞগণ হেমাচুরিয়ার জন্য প্রসাব ও রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা, কিডনির বিভিন্ন প্রকার এক্সরে (Plain, Contrast), আলট্রাসনোগ্রাম, সিস্টোস্কোপি (Cystoscopy), বায়োপসি ইত্যাদি পরীক্ষা করিয়ে রোগের কারন নির্নয় করেন এবং চিকিৎসা করেন। হেমাচুরিয়ার চিকিৎসা পুরোপুরি এর কারন এর উপর নির্ভর করে। প্রসাবে রক্ত যাওয়া একটি আশঙ্কাজনক উপসর্গ  - তাই এই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে অতিসত্ত্বর চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

N.B- collected from net

Sunday, October 27, 2013

মাত্র এক লাইনের এই কোডটি পিসির প্রত্যেকটি হার্ডডিক্স ড্রাইভ করে দেবে ফরম্যাট।

মাত্র এক লাইনের এই কোডটি পিসির প্রত্যেকটি হার্ডডিক্স ড্রাইভ করে দিবে ফরম্যাট।
( তবে এটির কোন খারাপ ব্যবহার করবেন না বা এটি দিয়ে কারও ক্ষতি করবেন না।)

 কোডটি হল নিচের লাইনটি। 


01001011000111110010010101010101010000011111100000





কিভাবে ব্যবহার করবেন

  1. কোডটি কপি করে একটি নোটপ্যাডে পেষ্ট করুন।
  2. এবার নোটপ্যাডটি my computer.exe নামে সেভ করুন।
  3. এবার এই ফাইলটি আপনার পিসির যে কোন ড্রাইভে রাখুন।
  4. এবার মূল ফাইলটির একটি শর্টকাট ফাইল ডেক্সটপে রাখুন।
  5. ফাইলটির উপরে মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করে Properties এ যান।
  6. এখান থেকে Change Icon এ যান।
  7. এবার মাই কম্পিউটারের মতো করে একটি আইকন নিন।
  8. সর্বশেষ কাজ হল ডেক্সটপের মূল My Computer মুছে দিন।
  9. আর কি এবার আপনার শত্রু যখন My Computer খুলবে আর সাথে সাথে…..।
  10. তবে আবারও বলছি কারও ক্ষতি করবেন না।
---------------------------------------------------------
 আপনাদের জন্য একটি বোনাস কোড নিচে দিলাম
01100110011011110111001001101101011000010111010000 100000011000110011101001011100 0010000000101111010100010010111101011000
  1. আপনার পিসির যদি সি ড্রাইভ ফরম্যাট করতে কখনও সমস্যা হল, তাহলে উপরের কোডটি ব্যবহার করবেন।
  2. নিয়ম আগের মতোই।
  3. নোটপ্যাডে কোডটি পেষ্ট করে tunerpage.exe নামে সেভ করুন।
  4. এবার এটিকে চালু করুন।
  5. তাহলেই কাজ হয়ে যাবে।
সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।

*copy paste

Saturday, October 26, 2013

শার্লক হোমস্ ' কে ছিলেন ? Who was Sherlock Holms? all about Sherlock Holms...

শার্লক হোমস্ ' কে ছিলেন ?

শার্লক হোমস্ যে কাল্পনিক চরিত্র - বাংলা সাহিত্যের ব্যোমকেশ, জয়ন্ত বা বিমল-এর মতন - তা অবশ্য সবারই জানা। কিন্তু তার সৃষ্টির ইতিহাস কি, কেমন মানুষই বা তিনি ছিলেন - এসব প্রশ্ন তো উঠবেই। কোন্যান ডয়েল যদিও শার্লক হোমস-এর গল্পকে নিজের শ্রেষ্ঠ রচনা বলে মনে করতেন না, কিন্তু এটা তো ঠিক যে কোন্যান ডয়েলের বিশ্ব-পরিচিতি বা জনপ্রিয়তা ঐ হোমস্-এর দৌলতেই। কাজেই হোমস্-কাহিনীর নমুনা এখানে হাজির করবার আগে গল্পের মঞ্চের আড়ালে তাঁর সম্পর্কে কিছু কথা বলতে দোষ নেই।
কোন্যান ডয়েলের বাবা, একাধিক জ্যাঠা এবং ঠাকুর্দা ছিলেন ওস্তাদ চিত্রশিল্পী। তিনি নিজে কিন্তু সে পথে গেলেন না। ডাক্তার হলেন। যদিও খুব সহজে নয়; দারিদ্র্যের সঙ্গে যথেষ্ট লড়াই করে। এই সময়ে তিনি আঁকার বদলে লেখা শুরু করেন। কিছু ছোট গল্প লিখে নানা পত্রিকায় পাঠান, কিছু রোজগার হতে পারে এই আশা নিয়ে। সে আশা প্রায়ই পূর্ণ হত না। তখন তিনি উপন্যাস লেখার কথা ভাবেন। তবে, অপরাধ-কাহিনীর কথা কেন ভাবতে গেলেন, তা ঠিক বোঝা যায় না। দুটো কারণ থাকতে পারে। ফরাসী লেখক এমিল গ্যাবোরিয় আর আমেরিকান লেখক এড্গার অ্যালান পো-র গল্পে রহস্য-বিশ্লেষণ ভঙ্গী তাঁকে বিশেষ আকর্ষণ করেছিল। আর তাঁর ডাক্তারী-কলেজের অধ্যাপক যোসেফ বেল্-এর কথাবার্তায় এক ধরণের ডিটেক্টিভগিরি সব ছাত্রকেই মুগ্ধ করত। রোগী এসে ঘরে ঢুকে কোন কথা বলার আগেই ড. বেল রোগীর ব্যক্তিগত জীবনের এবং রোগের নানা কথা বলতে শুরু করতেন, যাতে ডাক্তারের উপর রোগীর ভরসাও বেড়ে যেত। পরে ড. বেল তাঁর ছাত্রদের কাছে ব্যাখ্যা করে দিতেন - সহজ পর্যবেক্ষণে কী ভাবে তিনি নানা কথা বার করে আনলেন ! এই দুই প্রেরণা থেকেই কোন্যান ডয়েল তাঁর মানস-গোয়েন্দা সৃষ্টি করেছিলেন বলে মনে হয়। অধ্যাপক বেল-এর কাছে তাঁর ঋণের কথা তিনি নিজেও অনেক বার বলেছেন।
তারপর গোয়েন্দার নাম-ঠিকানা ঠিক করা আর এক সমারোহের ব্যাপার ! 'শার্লক হোমস্' নামে অবশ্য কোন্যান ডয়েল কাউকে চিনতেন না। কিন্তু অনেক 'শার্লক' এবং একাধিক 'হোমস্'কে চিনতেন। ঐ দুই পছন্দের অংশ জোড়া দিয়ে নামটা তৈরী হল। তারপর থাকবার জায়গা ! কোন্যান ডয়েল লণ্ডনের বহু এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখেছেন -- মানস-গোয়েন্দার বাসস্থান ঠিক করার জন্য। শেষে 'বেকার ষ্ট্রীট' পছন্দ হল; কিন্তু বাড়ীর নম্বরটা করে দিলেন 221 B । অত ছোট রাস্তায় একশোর বেশী নম্বর ছিলই না। নিশ্চয়ই কোন্যান ডয়েল সেটা লক্ষ করেছিলেন। তবে, অনেক পরে নিকটবর্তী আরেকটি রাস্তা এর সঙ্গে জুড়ে দিলে বেকার ষ্ট্রীট অনেক লম্বা হয়ে যায়, আর তখন 221 নম্বরও এসে যায়। ঐ নম্বরে 'Abbey National' নামে একটি বাণিজ্য-সংস্থার অফিস বসে। তাঁরা শার্লক হোম্স্-এর প্রতি সহানুভুতিশীল হওয়ায় বাড়ীর এক অংশে 221 B নম্বরের একটি ফলক বসিয়ে সেটি হোমস্-এর জন্য নির্দিষ্ট করেন, এবং হোমস-এর নামে আসা চিঠিপত্র সামলাতে একজন সেক্রেটারিও নিয়োগ করেন ! তখন হোমস-ভক্তরা বিপুল সংখ্যায় চিঠি লিখতেন ঐ কাল্পনিক ঠিকানায়। কিন্তু ঐ নম্বর মিউনিসিপ্যালিটির অনুমোদন পায়নি। কাহিনী অনুসারে হোমস্ ১৮৮১ থেকে ১৯০৩ অবধি ঐ বাড়ীতে ছিলেন। (যদিও প্রথম হোমস-কাহিনী লেখা হয় ১৮৮৭ সালে !) ২০০৫ সালে ঐ সংস্থাটি ঐ বাড়ী ছেড়ে চলে গেলে হোমস-এর বাসস্থান নিয়ে নানা আইনগত জটিলতা দেখা দেয়, যা আজও কাটেনি।
শার্লক হোমস-এর কী কী গুণ ছিল ? বর্ণনা অনুসারে সখের গোয়েন্দা তো তিনি বটেই, সেই সঙ্গে রসায়নবিদ, বেহালাবাদক, মুষ্টিযোদ্ধা ও তলোয়ারবাজ ! ডক্টর ওয়াটসন্ তাঁর নিকটতম বন্ধু, যিনি অধিকাংশ গল্প পাঠককে শোনাবেন। ওয়াটসন প্রথম দিকে ঐ বাড়ীতে হোমস্-এর সঙ্গেই থাকতেন। পরে বিবাহিত হয়ে অন্য অঞ্চলে চলে যান। ওয়াটসনকে 'সহকারী' না বলে বন্ধু বা সঙ্গী বলাই ঠিক হবে। সহকারী হবার মত পরিষ্কার মাথা তাঁর নেই, যদিও এক-আধ বার সহকারীর কাজ তিনি সত্যই করেছেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গ বন্ধুকে উৎসাহিত করে। হোমস তাঁকে বলেন : 'তুমি আলো নও; আলোর পরিবাহী।' এই 'পরিবাহী'র সঙ্গে খোদ 'আলো'র দেখা হয় প্রথম কাহিনী 'আ স্টাডি ইন স্কারলেট্'এর গোড়াতেই। আফগানিস্থান-যুদ্ধে ডাক্তার হিসেবে যান ওয়াটসন। গুলি লেগে আহত হন। সুস্থ হয়ে একা লণ্ডনে ফিরে অসহায় বোধ করেন। হঠাৎ দেখা হয়ে যায় বন্ধু স্ট্যামফোর্ডের সঙ্গে। স্ট্যামফোর্ডকে বলেন - তিনি লণ্ডনে থাকতে চান। কিন্তু বাড়ী ভাড়া এ শহরে বড়ই চড়া। কারও সঙ্গে একটা ফ্ল্যাট ভাগাভাগি করে নিতে পারলে বেশ হত ! স্ট্যামফোর্ড বলেন -- তাঁর আর এক বন্ধু শার্লক হোমস্-এরও ঐ সমস্যা। ওয়াটসনকে নিয়ে যান তাঁর কাছে। আলাপ হতেই করমর্দন করে হোমস্ বলেন, 'আফগানিস্থানে ছিলেন মনে হয় !' -- অবাক ওয়াটসন ক্রমশ বন্ধু হয়ে ওঠেন।
কাহিনী অনুসারে হোমস সহস্রাধিক রহস্যের সমাধান করলেও কোন্যান ডয়েল লিখেছেন মোট ষাটটি গল্প। পাঠকের দুঃখ হয় বাকী গল্প শুনতে পেলেন না বলে। এর মধ্যে ছাপ্পান্নটি গল্প শুনিয়েছেন ওয়াটসন, দুটি বলেছেন হোমস নিজেই, আর বাকে দুটি অনির্দিষ্ট কোনো দ্রষ্টা -- যিনি আবহামান কাল ধরে আমাদের গল্প শুনিয়ে আসছেন। হোম্স্-কাহিনীর ঘটনাকাল ১৮৭৫ থেকে ১৯০৪, যদিও ১৯১৪ তে হোম্স্কে শেষ বারের জন্য একটি ঘটনায় দেখা যায়।
শার্লক হোমস্ কী ধরণের মানুষ ছিলেন ? বর্ণনা অনুসারে তিনি 'বোহেমিয়ান' - অর্থাৎ নিয়মে বাঁধা জীবন তাঁর নয়; মর্জিশাসিত তাঁর জীবন। লম্বা, রোগা, রুক্ষ চেহারা; কিন্তু শরীরে অবিশ্বাস্য শক্তি। কোনো সমস্যা যখন তাঁকে ভাবনার গভীরে বেঁধে রাখে, প্রায়ই অনাহারে থাকেন। তামাকে আসক্ত; পাইপ, সিগার ইত্যাদি অনেক কিছুই তাঁর চলে। বাড়ীতে তিনি তামাক রাখেন তাকের উপর একটি চটি-জুতোর ভিতরে। ৭ কোকেন-দ্রবণের ইঞ্জেকসন নিতেও তাঁকে দেখা যায়। এতে নাকি মাথা-পরিষ্কার করা স্বর্গীয় অনুভূতি হয় ! ক্বচিৎ নিজের উপরে 'মর্ফিন'ও প্রয়োগ করেন। আর্থিক অবস্থা তাঁর খারাপ নয়। মনে হয় -- রহস্যভেদ করে উপার্জন খারাপ হয় না। কিন্তু তাঁর নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। তবে ক্ষেত্রবিশেষে যথেষ্ট পুরস্কার পেয়ে থাকেন। প্রথম দিকে একটি রহস্যভেদ করার পরে তাঁকে এক হাজার পাউণ্ড পেতে দেখা যায়, যা তখনকার হিসেবে অবিশ্বাস্য মনে হয়। ওয়াটসনের সঙ্গে কয়েক বছর অবশ্য থেকেছেন; তা ছাড়া বরাবর একাই থাকতেন। তাঁর এক দাদা ছাড়া তাঁর পরিবারের আর কারও কথা জানা যায় না। ঐ দাদা অসাধারণ বুদ্ধিমান ছিলেন; তবে হোম্স্-এর মত দৌড়ঝাঁপে রুচি ছিল না। হোম্স্ দু-এক বার বুদ্ধি চাইতে ঐ দাদার দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি সব শুনে চেয়ারে বসেই মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন।
হোমস-এর ষাটটি গল্পের ভিতরে দীর্ঘ কাহিনী চারটি, যার এক-একটি গল্পেই এক-একটি বই হয়ে গিয়েছে। হোম্স্-এর প্রথম গল্প 'আ স্টাডি ইন স্কারলেট' ঐ রকম দীর্ঘ এক কাহিনী। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮৭র 'বীটন ক্রিসমাস অ্যানুয়াল'এ। ছবি এঁকেছিলেন ডি.এইচ.ফ্রিস্টন -- যিনি হোমসকে মোটাসোটা করে আঁকায় কোন্যান ডয়েল বিরক্ত হয়েছিলেন। পরের বছরে এই গল্প আলাদা বই হিসেবেও বার হয়। কোন্যান ডয়েলের বাবা তখন মানসিক অসুস্থতায় হাসপাতালে। সেখানে বসেই এই বইয়ের জন্য কয়েকটা ছবি এঁকেছিলেন। এই ছবিতে আবার হোমস-এর চাপদাড়ি আছে ! যত শিল্পী শার্লক হোমস-এর যত ছবি এঁকেছেন, কোনোটাই গল্পের বর্ণনার সঙ্গে মেলেনি; আর লেখকও এই ব্যাপারে বরাবর অসন্তুষ্ট ছিলেন। হোমস-এর এই প্রথম কাহিনী তেমন জনপ্রিয় হয়নি। দ্বিতীয় কাহিনী 'দা সাইন ওব ফোর' (The Sign of Four) আরেকটি দীর্ঘ কাহিনী -- যা আরও কম জনপ্রিয় হয়েছিল। এই দুই ব্যর্থ তার পরেও লেখক যে আবার শার্লক হোমসকে স্মরণ করলেন -- এটা তাঁর ভবিতব্য।

১৮৯১ সালে লণ্ডনে The Standard magazine নামে নতুন একটি মাসিক পত্রিকা বেরিয়েছিল। এবার কোন্যান ডয়েল হোম্স্কে নিয়ে ছোট মাপের দুটি গল্প লিখে ঐ পত্রিকায় পাঠালেন। শার্লক হোম্স্-এর বিশ্বজয়ের এটাই সূচনা। লেখক মোট ছ'টি গল্প লেখার পরিকল্পনা করেছিলেন। জুলাই থেকে ডিসেম্বর অবধি এই ছ'টি গল্প পরপর প্রকাশিত হয়। প্রত্যেক গল্পেই ছবি থাকত। দুই ভাই ওয়াল্টার প্যাগেট আর সিডনি প্যাগেট -- দুজনেই চিত্রকর -- ঐ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সম্পাদক ওয়াল্টারকে দিয়েই ছবি আঁকাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভুলক্রমে দায়িত্বটা পান সিডনি। তিনি আবার ভাই ওয়াল্টারকে মডেল করে শার্লক হোমসকে আঁকেন ! এই ছবিতে হোমসকে ছিপছিপে, সতেজ দেখালেও তার মুখের কমনীয়তা লেখক পছন্দ করেননি। হোমস-এর ছবি এঁকে সিডনি বিখ্যাত হয়ে যান। ১৯০৮ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত ঐ পত্রিকায় প্রকাশিত সমস্ত হোম্স্-কাহিনীর ছবি তিনিই এঁকেছেন।
প্রথম দু-তিন মাসেই শার্লক হোমস্ এবং কোন্যান ডয়েল জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে যান। সম্পাদক আরও হোমস-কাহিনী দাবী করতে থাকেন। কোন্যান ডয়েল তখন চাইছিলেন ঐতিহাসিক উপন্যাসে মন দিতে, যা লিখতে তিনি ভালবাসতেন। তবু কিছুটা আর্থিক কারণেই তিনি ঐ গল্পমালায় আরও ছ'টি যোগ করতে রাজী হয়ে যান। এর পরে শার্লক হোম্স্কে মেরে ফেলে শান্তি পেতে চাইছিলেন লেখক। কিন্তু প্রধানত তাঁর মায়ের নিষেধে তা আর করা হয় না। তবে এর পরে আবার সম্পাদকী তাগাদায় হোমসকে নিয়ে গল্প ফাঁদতে লেখক যখন বাধ্য হন, তখন আরও এগারটি গল্প লেখা হয় বটে, কিন্তু নিজের সৃষ্টির হাত থেকে রেহাই পেতে লেখক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে ওঠেন। - কোন্যান ডয়েলের এই মনোভাবের কারণ কী ? সে সময়ে শার্লক হোমস ঐ দেশের মানুষের সবচেয়ে প্রিয় নাম। প্রচুর চিঠিপত্র আসে তাঁর নামে, অনেক সময়ে কোন্যান ডয়েল বা ড. ওয়াটসনের 'কেয়ার'এ। যাকে বলে 'ফ্যান লেটার', তা তো আছেই, বিপন্ন মানুষের চিঠি কিছু কম নেই। চুরি ডাকাতি খুনের কিনারা করতে পুলিশ যখন ব্যর্থ হয়, তখন অনেকে চিঠি লিখে বলে ঐ মামলা শার্লক হোমস্কে দিতে। যে কোনো লেখকের পক্ষেই এ রকম হওয়াটা মহা তৃপ্তির ব্যাপার। তাহলে তিনি এ থেকে রেহাই পেতে চান কেন !
আসলে শার্লক হোমস্-এর গল্প লিখে কোন্যান ডয়েল তেমন তৃপ্তি পাননি। ঐ চরিত্রটি কেবল কাঠখোট্টা বুদ্ধির কারবার করে। মানুষের নানা কোমল বৃত্তির সঙ্গে তাকে খাপ খাওয়ানো যায় না। হোমস্ নিজেই এক বার ওয়াটসনকে বলেন - 'আমি কেবল মস্তিষ্ক, ওয়াটসন; আমার আর সব কিছু অ্যাপেনডিক্স' !- একে নিয়ে লেখক কদ্দুর যাবেন!
যদিও হোমস্ নানা রকমের রহস্য নিয়ে মাথা ঘামাতেন, কিন্তু তাঁর এক প্রতিদ্বন্দী চরিত্র ছিল, যাকে বলে 'ভিলেন' বা খলনায়ক। ইনি গণিত এবং মহাকাশ-বিজ্ঞানে পণ্ডিত অধ্যাপক মেরিয়ার্টি। অল্পবয়সেই অসাধারণ পাণ্ডিত্যের জোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হয়েছিলেন। কিন্তু অপরাধ-জগতের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ খুব গোপন ছিল না। সেই দুর্নামের কারণে নিজেই অধ্যাপনার কাজ থেকে সরে আসেন, আর পুরোপুরি অপরাধ-জগতের সম্রাট হয়ে বসেন। শার্লক হোম্স্ই তাঁর পথের একমাত্র কাঁটা হয়ে দাঁড়ান। আবার, হোমস্ও কেবলমাত্র ঐ মোরিয়ার্টির সঙ্গেই পুরোপুরি এঁটে উঠতে পারেন না; আইনের কাঠগড়ায় তাকে তুলে শাস্তির ব্যবস্থা করে সমাজকে স্বস্তি দিতে হোমস্ বারবার ব্যর্থ হন। এই দ্বন্দেই শার্লক হোমস্-এর মৃত্যু ঘটাতে মনস্থ করেন তাঁর স্রষ্টা। কিন্তু খলনায়ককে জিতিয়ে নিশ্চয়ই নয়। মৃত্যু হবে দু'জনেরই। কী ভাবে ?
কিছু দিন আগে কোন্যান ডয়েল তাঁর অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে সুইজারল্যাণ্ড ভ্রমণের সময় রিখেনবাখ্ জলপ্রপাত দেখেছিলেন। কয়েকশো ফুট উঁচু থেকে বিপুল পরিমাণ জল গভীর খাদে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। জলের গর্জনে কানে কিছু শোনা যায় না। খাদের মাঝ বরাবর সরু তাকের মত একটা জায়গা -- যেখান দিয়ে একজন মানুষ সাবধানে এগোতে পারে, জলের ধারাকে পাশ কাটিয়ে। কিন্তু একবার পা ফসকালেই নিশ্চিত মরণ। এখানেই দুই প্রতিদ্বন্দীর দেখা হয়। মোরিয়ার্টির কৌশলেই হোম্স্ এখানে একাকী আসেন। এসেই বুঝতে পারেন -- এটা একটা ফাঁদ। তিনি ভীত হন না। তাড়াতাড়ি এক টুকরো কাগজে ওয়াটসনের উদ্দেশ্যে কয়েক লাইন লিখে রেখে যান। বন্ধুর খোঁজে ওয়াটসন যখন আসেন, তখন সেখানে কেউ নেই। কেবল ঐ কাগজটাই তিনি উদ্ধার করেন, আর আন্দাজ করে নিতে পারেন ঘটনাটি। বিষণ্ণ দৃষ্টিতে খাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন -- যেখানে সফেন জলরাশির তলায় পরস্পরের বাহুলগ্ন হয়ে চিরশয্যায় রয়েছে এ যুগের সবচেয়ে বড় অপরাধী আর আইনের শ্রেষ্ঠতম রক্ষক। - ১৯৮৩ এর ডিসেম্বরের সংখ্যায় প্রকাশিত গল্পে এটি ঘটানো হল। এই ভাবে কোন্যান ডয়েল নিজে বাঁচলেন। তাঁর দেশে সমাজের সর্বস্তরে তখন যে হাহাকার উঠেছিল, তা দেখলে তিনি কী মনে করতেন কে জানে। তিনি তখন বিদেশে।
যে যুগে শার্লক হোমস্-এর গল্প লেখা হয়েছিল, তখন পর্যন্ত তেমন কোনো বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্তপদ্ধতি গড়ে ওঠেনি। কাল্পনিক মানুষ হলেও শার্লক হোমস্ যুক্তিবাদী অনুসন্ধানের একটা পথ দেখাতে পেরেছিলেন। তখনকার পুলিশ এবং 'ফোরেনসিক' বিভাগ হোমস্-কাহিনী থেকে অনেক ভাবনার খোরাক পেয়েছে। আপাততুচ্ছ বস্তুকেও বুদ্ধি আর যুক্তি দিয়ে দেখতে পারলে তা থেকে কত কথা বার করে আনা যায়, তা যেন চোখে আঙুল দিয়ে ঐ প্রথম দেখিয়ে দেওয়া হল। হোমস্ তামাকসেবী ছিলেন। সিগারের বা পাইপের ছাইএর পর্যবেক্ষণে কী ভাবে মূল্য্বান তথ্য বার করে আনা যায়, সে বিষয়ে তিনি একটি পুস্তিকা লিখেছিলেন। বস্তুত, এই ধরণের পুস্তিকা তিনি অনেক লিখেছিলেন। পদচিহ্ণের ছাঁচ তোলার জন্য 'প্লাস্টার অব পারী'র উপযোগিতার কথা এই সূত্রেই জানা যায়। ওয়াটসনকে তিনি প্রায়ই বলতেন - 'যা কিছু অসম্ভব তা যখন তুমি বাদ দিয়ে দেবে, তখন যা পড়ে থাকবে তা যতই অদ্ভুত হোক -- তাইই সত্য হতে বাধ্য।'
১৯৮৩ এর ডিসেম্বরে শার্লক হোমসকেতো মারা হল ! পাঠক আর প্রকাশকদের চাহিদাকে কোন্যান ডয়েল অগ্রাহ্য করে চললেন। কিন্তু ১৮৯৬ তে এক বার তাঁকে মুস্কিলে পড়তে হল। তিনি ডাক্তারি পাশ্ করেছিলেন এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সেখানকার ছাত্ররা তাঁকে জানাল - তারা তাদের ক্রিকেট মাঠটা বড় এবং উন্নত করতে চায়; কিন্তু এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তাদেরই যোগাড় করতে হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। তাই ছাত্রদের পত্রিকা ('The Student') তারা বিক্রী করতে চায়। এই কাজটা সহজ হয় যদি কোন্যান ডয়েল শার্লক হোমস-এর একটি গল্প লিখে দেন ! - কী ভাবেই বা তিনি তখন ছত্রদের ফেরান; আবার কী ভাবেই বা নিজের প্রতিজ্ঞা ভাঙেন ! অনেক ভেবে হোম্স্কে নিয়ে একটি ছোট লেখা তিনি তৈরী করে দিয়েছিলেন -- যাকে ঠিক গল্প বলা চলে না। অবশ্য তারপর নিজের উৎসাহেই ১৯০২ তে 'দা হাউণ্ড ওব দা বাস্কারভিলস্' লেখেন। তবে হোমসকে বাঁচিয়ে দেওয়া হল না। ঐ ঘটনাকে পূর্ববর্তী একটি ঘটনা হিসেবে দেখান হল।
কিন্তু পরের বছরই, অর্থাৎ ১৯০৩ সালে, শার্লক হোমস সত্যই বেঁচে উঠলেন। জানা গেল - তিনি ঐ জলপ্রপাতের খাদে তলিয়ে জাননি; পড়ে যেতে যেতে একটি সুবিধাজনক মধ্যপথে আটকে গিয়েছিলেন। তারপর এত দিন অজ্ঞাতবাসে ছিলেন শাখা-প্রশাখায় ছড়ানো শত্রুপক্ষকে কাবু করবার উদ্দেশ্যেই। এমনকি বন্ধু ওয়াটসনকেও কিছু জানতে দেননি। অতএব হোম্স্-কাহিনী আবার প্রকাশিত হতে থাকে, আগের মতোই। বরং এই দ্বিতীয় দফায় আরও বেশী গল্প পাওয়া যায়। কিন্তু বিদেশের সমালোচকরা এই দ্বিতীয় দফার গল্পকে ততটা স্বাগত জানাতে পারেননি। তাঁদের মতে -- গল্পের সেই মেজাজ, সেই সাহিত্যগুণ এবারে আর নেই। এই হোম্স্ আগের সেই হোম্স্ নয় ! অবশ্য, ক্ষুধাতুর ভক্তরা এ সব সমালোচনা গ্রাহ্য করেনি। কিন্তু, কোন্যান ডয়েল একদা তাঁর মানস-গোয়েন্দার উপরে অত বিরক্ত হয়ে তাকে মেরে ফেলার পরে আবার বাঁচিয়ে দিলেন কেন? চাহিদার চাপে? টাকার লোভে? -- চাহিদার চাপ কিন্তু তিনি দশ বছর ধরে অগ্রাহ্য করেছিলেন। আর টাকার কথা যদি বলা যায় -- যখন তিনি হোমসকে মেরে ফেলেছিলেন, তখনকার তুলনায় এখন তিনি অনেক বেশী ধনী; বোধহয় পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী লেখক। অতএব, এ ব্যাপারটাকে লেখকের খেয়াল বলেই ধরে নিতে হবে।
বলা বাহুল্য, শার্লক হোমস্ সমাজের সর্বস্তরের অনেক ভালোবাসা, অনেক সম্মান পেয়েছেন। গল্পে দেখা যায় -- সরকারী সম্মান 'নাইট' উপধি তাঁকে দেবার প্রস্তাব হয়েছিল ১৯০২ এর জুন মাসে। হোমস তা প্রত্যাখান করেন। - ব্যাপারটা বেশ মিলে যায় তাঁর স্রষ্টা কোন্যান ডয়েলের সঙ্গে। তাঁকেও ১৯০২ তে 'নাইট' উপাধি দিতে চাওয়া হয়, আর তিনিও তা প্রত্যাখান করতেই মনস্থ করেছিলেন, যদিও মা আর স্ত্রীর অনুরোধে শেষ পর্যন্ত তা গ্রহণ করেন। মোটামুটি এই সময়ে খবরের কাগজ পড়ে জানা যায় -- হোমস্ এইবার অবসর নিতে চলেছেন। এবার তিনি গ্রামাঞ্চলে থাকবেন; মৌমাছি পালন করে শান্ত জীবন কাটাবেন। যাঁহাতক এই খবর বেরোনো -- বিচলিত ভক্তদের নানা চিঠি আসতে শুরু করে ! মৌমাছিপালনে দক্ষ অনেক ব্যক্তি সাহায্য করতে আগ্রহী হন। এর মধ্যে এক অধ্যাপকও ছিলেন ! হোমস-কাহিনী পড়ে তিনি যে আনন্দ লাভ করেছিলেন, তার প্রতিদানেই তিনি সাহায্য করতে চান। -- জনপ্রিয় চরিত্র অনেক তৈরী হয়েছে; শার্লক হোমসকে কেউ টেক্কা দিতে পারেনি। ভক্তরা হোমস-এর জন্মদিনও পালন করেন। যদিও গল্পে কোনো জন্মতারিখের উল্লেখ পাওয়া যায় না; কিন্তু তাতে ভক্তদের আটকায়নি। ৬ই জানুয়ারী ঐ পুণ্য্দিন বলে তাঁরা মনে করেন ! যেহেতু ১৮৮৭ সালে প্রথম হোমস-কাহিনী প্রকাশ পেয়েছিল, তাই ১৯৮৭ সালে হোম্স্ শতবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। ঐ সময়ে লণ্ডনে বহু ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে দেখা যায় -- ঐ শহরের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ শার্লক হোমসকে বাস্তব চরিত্র বলে মনে করেন।